মানস কথা | তাপসকিরণ রায়
মানস কথা
তাপসকিরণ রায়
মন
খুলে সব কিছু বলা যায় না--এই যে আমি পঁয়ষট্টি পার করা বৃদ্ধ, মনের বয়স কিছুতেই বাড়াতে পারছি না। আমি ভুলে যাই যে আমি এক বৃদ্ধ, আমার ঘরে আমার বৃদ্ধা আছেন। স্ত্রীকে বৃদ্ধা বলতে কিন্তু বেশ খাৱাপ লাগছে
আমার, নিজেকে বৃদ্ধ বলতেও মনে কোথায় যেন বাজে ! আসলে কেউ চায়
না বৃদ্ধ হতে।
স্ত্রীকে
এখন আর গোলাপ তুলে দিয়ে, আই লাভ উ, বলতে পারি না। আসলে শরীরের
সঙ্গে আমাদের মনও কিছুটা বুড়িয়ে তো যায়ই। তবু, তবু কখনও দখিনা বাতাস বইলে, বাতায়ন
খোলা থাকলে এ মনেও ইচ্ছা এসেই যেতে পারে স্ত্রীর হাতে একটা গোলাপ তুলে দিতে। সেদিন
ফুলের বাগানে স্ত্রী আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। না আমাকেই
দেখছেন এমনটা কথা নেই। হয়ত বা তাঁর বালক জীবনের কোন প্রেমিকার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। অবশেষে আমার মাপে
তাকে মিলিয়ে নেবার চেষ্টা করছিলেন। মাঝে মাঝে এমন হয়--হারিয়ে যাওয়া পছন্দের মানুষটাকে
স্বামীর মধ্যে খুঁজে ফিরতে ইচ্ছে হয়।
তেমনি
আমিও স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। চোখ তো সেখানে দর্পণের কাজ করবেই। কিন্তু মনের
প্রতিফলন অন্যকিছু খুঁজে ফিরতে পারেই। আমিও আরশির
আড়ালে দেখে নিই অপ্সরা সুন্দরীদের। বয়সের চোখ কিছুটা ঝাপসা হলেও তো সেই একই দেখা
দেখবো ! সুন্দরী সৌন্দর্যকে অবমাননা করতে পারি না। সেখানে অপরাধ বোধ নেই--বয়সেও
বয়স হারিয়ে যায়, এমন একটা সুন্দর ফুটফুটে মেয়ের পাশে আমিও
হারিয়ে যেতে পারি।
কে যেন
পাশ থেকে বলে উঠল, বুড়ো হাবড়া !
হঠাৎ, হঠাৎ
আমি আমার বৃদ্ধত্বে ফিরে আসি। বিশ্বাস করুন আমি তাকে ছুঁয়ে দেখতে চাই নি--আমি তার গন্ধ
নিতে চাইনি। তার বিশ্লেষণেও যাই নি যে তার সৌন্দর্যের সাথে মিশে থাকা কতখানি প্রসাধন। আমি দেখেছি,
একটি নারী এমনি প্রস্ফুটিত ফুলের সৌন্দর্য অকালে বসন্ত এনেছে। শরীর বলবো না, মন, সেখানে আর কারও প্রবেশ অধিকার নেই।
আবার
মনের গভীরে আমারও একান্ত ভাব বিশ্লেষণ থাকতেই পারে--আমি আমার মত ভাবতেই
পারি--হ্যাঁ--সব কথা প্রকাশ করতে নেই, আমি ফিরে যেতে পারি
আমার অবয়স্ক নায়িকার পাশে, আমার শৈশবের দুর্বার ছুটোছুটির
পাশটিতে। আমার বাইরের বসন্ত যতটা শুকিয়ে গেছে ভেতরে ততটা মিইয়ে যায় নি দেখো ! আমিও
কখনও আব্রুর ভেতরটা অনায়াস দেখে নিতে পারি--পিচ্ছিল স্বপ্নের মাঝে সুন্দরী অবগাহন
হতেই পারে।
উঠতি
বয়সে কি না হয়--স্বপ্নের চুমুকে বিছানার ধাতু ক্ষয় কিংবা অতীব জলজ লিপ্সা শরীর
বেয়ে নেমে যেতেই পারে। যাই বলো ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই ! এখানে
বয়েসের উদ্গার নেই--কামনা বাসনার পরিমাপ যন্ত্র নেই--ভালবাসার পরিধি নেই, মাপক নেই। শেয়াল কাঁটার বনে দেখি অজস্র কুত্তার দাপাদাপি। ছদ্মবেশে নেড়ি
তখন পালিয়েছে। পুরুষের দঙ্গল থেকে নারীর সফল পলায়ন, এ কথাই লেখা ছিল সংবাদে। অথচ কখনও
নারীর মন পুরুষালী ঘ্রাণে রাত ফিরে আসে, অনায়াস সম্ভাবনায় ঘিরে থাকে বনের গহন ! তখন ছিঁড়ে যেতে যেতে তুমি খুব হাসতে পারো, অন্যদিকে
মেঠো পথের দুর্দান্ত মর্দের মুখে তখন জ্বলন্ত রোদ।
একই
পুরুষ থেকে এক এক সময় অন্য এক রূপান্তরিত দুর্ধর্ষ পুরুষ বেরিয়ে আসে। কখনও বেশবাস
খসে যাওয়া মাঝরাত--নারী ও পুরুষ। এ দিকে রাত্রি শেষ। যার গায়ে জড়ান বিয়ের বস্ত্র—তাকে ত মানতেই হয়। তবু মনের স্বাধীনতা হারাতে পার না তুমি।
আমি আর
বলতে পারি না--জীবনটা দলে মুচড়ে কখনও ঘন পিপাসার স্রাব। প্রতিমাসের
রক্ত পাতে ক্ষয়ে যায় দুর্দম বাসনা। ঘুপচি ছায়াতে কখনও দেখি নিজেরই নগ্নতা, বারবার খুঁটে দেখি সেই সর্বনাশা দর্পণ ! একটি পুরুষ চৌচির--কাঁচের টুকরোয়--টুকরো টুকরো তার মুখ--তবু নারীর দংশন ও নখরে ধরা
থাকে বলাৎকারী মাংস।
আমি
জানি, হিংস্র কলম এখনও রক্ত ঝরাতে পারে। কবি তার কল্পনায় বারবার বৈধব্য ছড়ায়--কলম
আঁচড়ে টেনে তোলে নিষিদ্ধ কথা। স্বাধীন কলমে তুমি পরো স্বেচ্ছাচারী এক বলাৎকারী কাহিনী বানাতে। তুমি নির্লজ্জের মত অন্ধকার
সরিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে যে মেয়েটিকে নগ্ন বানালে--তার হাতেই আবার তুলে দিতে পার লজ্জাবস্ত্র!
অথবা পুরুষ কামনায় দুর্ধর্ষ একটি মেয়ের কথা লিখে নাও তাকে সাজিয়ে নাও নিজের মত অনায়াস যূপকাষ্ঠ।







No comments
Post a Comment