Header Ads

advt-102

উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োগ | মোহাঃ বেলাল উদ্দিন মন্ডল




উপস্থিত বুদ্ধির প্রয়োগ

মোহাঃ বেলাল উদ্দিন মন্ডল


রায়পুর গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস। সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে। মসজিদগুলিতে বাহির গ্রাম থেকে আগত মওলানারা পরিচালনা করেন। তবে এই গ্রামে একজন ভণ্ড প্রভাব বিস্তার করে শিকড় গেড়ে বসে আছে। সকলে হুজুর বলে সম্বোধন করে। হুজুর বলে থাকে তাঁর কথা না শুনলে কেউ জান্নাতে যাবে না। যেমন সে যেটা খেতে চাইবে সেটা সে যেন পায়।  মাঝে মাঝে সে বলে বসে ঈশ্বর তাঁর সাথে রাত্রে সামনা সামনি কথা বলেন। কেউ ওঁর কথার বিরুদ্ধে কথা বললে অশিক্ষিত মানুষ তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এমন কি মারতে উৎদ্ধত হয়।

রহিমুদ্দিন তাঁর ছেলেকে শিক্ষিত করতে দূর পাহাড়ী অঞ্চলে পাঠিয়েছিল যাতে তার মুখ থেকে জ্ঞানের কথা শুনতে পায় আর ছেলের কারণে যেন তাঁর মানসম্মান বৃদ্ধি পায়। ছেলে পড়াশোনা করে গ্রামে এসে দেখে, গ্রামে ভণ্ড বাবা এক বিরাট সভাতে হাদিস কোরআন-এর কথা রেখে নিজের মন গড়া কথা সাধারণ মানুষদের বলছে। সাধারণ অশিক্ষিত মানুষ ওটাই ঈশ্বরের বাণী ভেবে শুনছেন। হঠাৎ করে ছেলেটি বলে উঠলো হুজুর এসব কথা তো হাদিস কোরআনে নেই। তখন ভণ্ড হুজুর বললো, এই বিধর্মীকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হোক, এ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কথা বলছে।

সাধারণ অশিক্ষিত মানুষ ছেলেটিকে মেরে তাড়িয়ে দিলো। ছেলেটি কাঁদতে কাঁদতে আবার পাহাড়ী অঞ্চলের গুরুর নিকট উপস্থিত হয়ে গুরুকে বললো, আমি এতো ভালো রেজাল্ট করে গিয়ে সঠিক কথা বললাম তবুও আমি মার খেলাম। আমি কি তাহলে ভুল শিক্ষা গ্রহন করলাম? তখন গুরুজী বলিলো, তুমি শিক্ষা গ্রহন করেছ তবে তার উপযুক্ত প্রয়োগ শেখনি। আরও কিছুদিন শিক্ষা গ্রহণ করে আবার গ্রামের দিকে রওনা দিলো। এবার গ্রামে গিয়ে হুজুরের কাছে গিয়ে বললো, হুজুর আমার ভুল হয়ে গিয়েছে আপনাকে চিনতে। আপনি মহান আমি আপনার শিষ্য হতে চাই। আমাকে আপনার সেবা করার মওকা দেন দয়া করে।

হুজুর এক বড়ো সভাতে সকলকে বললো, শোনো সকলে এই ছেলে আমার সেবা করবে। ওর ভুল ভেঙ্গে গেছে। আমি একে রেখে দিচ্ছি গ্রামে। সকলে এক সঙ্গে বললো, আপনি ভালো বুঝেন হুজুর। বেশ কিছুদিন পরে এক সভায় ছেলেটি হুজুরের কাছেই বসে আছে। হঠাৎ করে একটি চুল মাটি থেকে কুড়িয়ে চুমু খেতে লাগলো, তখন পাশের জন জিজ্ঞাসা করলো, কি হলো এটা করলে কেন? ছেলেটি  কানে কানে চুপিচুপি বললো, কাওকে বলবে না এই হুজুরের চুল জান্নাতের টিকিট। ওই ব্যক্তি তখন চুপ করে বললো, হুজুর আমাকে একটি চুল দিতে হবে। এইভাবে পাশে জানাজানি হতে লাগলো, আর একে একে বলতে লাগলো, হুজুর আমাকে একটি চুল দিতে হবে। শেষে হুজুরের চুল প্রায় শেষ হতে লাগলো, হুজুর বুঝে সুঝে সেখান থেকে পলায়ন শুরু করলেন মাঠের দিকে। ইতিমধ্যে গ্রামে খবর প্রচার হয়ে গেলো। গ্রামের এক চাষির স্ত্রী মাঠের দিকে দৌড়াতে শুরু করলো বলতে বলতে আমার পোড়া কপাল সকলে জান্নাত চলে গেলো আর তুমি মাঠে পড়ে আছে গো!  মহিলার স্বামী শুনে গরু ডাকানো পাচন আর কেঁদে নিয়ে ছুটলো হুজুরের পিছু পিছু। আমাকে একটি চুল না দিলে কেটে ফেলবো। হুজুর অবস্থা দেখে গ্রাম ছেড়ে পলায়ন করলেন। এবার শিক্ষিত ছেলেটি সঠিক হাদিস ও কোরআনের বাণী গ্রামে শোনাতে লাগলো।




No comments

Powered by Blogger.