একান্ত সাক্ষাৎকারে কবি কৌশিক গাঙ্গুলি
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ডিজিটাল ও সাহিত্য পত্রিকাগুলোয়
পরিচিত নাম কবি কৌশিক গাঙ্গুলি। তাঁর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় প্রশ্নোত্তরে তাঁর অনুভূতির
কথায় শুনলেন ‘অনুভূতির কথায়’-র সম্পাদক হামিম হোসেন
মণ্ডল। শুধুমাত্র ‘অনুভূতির কথায়’-র পাঠক-পাঠিকাদের জন্য
তা তুলে ধরা হল।
সুপ্রভাত। কবি কৌশিক গাঙ্গুলি
কেমন আছেন?
আপনাকেও সুপ্রভাত। কোনরকমে বেঁচে আছি।
কারণ?
মায়ের আশ্রয়ে থাকতাম। মাতৃহারা হবার পর এই অপদার্থ বাউন্ডুলে কবিকে দেখার আর পাশে থাকার কেউ নেই ।
প্রঃ আচ্ছা। শুনবো। তার আগে বলুন
সাহিত্য জগতে আপনার পদার্পন কবে থেকে?
উঃ এখন থেকে ৩১ বছর আগে। কিছু কথা বলার তাগিদে লেখার শুরু। হয়তো আর কিছু পারি না বলে।
সাহিত্যের কোন বিভাগে আপনি লেখেন
বা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?
কবিতা ও ছোট গদ্য। অল্প পরিসরে অনেক কিছুর ছবি তুলে ধরতে চাই বলে। আমার কবিতা সারা দুনিয়াজুড়ে অল্পবিস্তর বাংলা ভাষার পাঠক ও পাঠিকাদের কাছে পরিচিত।
প্রঃ কবিতাকে আপনি কী নজরে দেখেন? আপনার কাছে কবিতা কী?
উঃ কবিতা হচ্ছে নিজেকে চিনে অপরকে চেনানোর প্রয়াস। কবিতা হচ্ছে আশ্রয়। আমার কবিতা বিবেকের কন্ঠস্বর।
কয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে? তারমধ্যে আপনার সবচেয়ে পছন্দ বা তৃপ্তির কোনটা?
১৫ টি কবিতার বই আর ৫৩ টা কবিতাফোল্ডার প্রকাশিত হয়েছে। অজস্র পত্রিকায় অসংখ্য কবিতা লিখি। স্রষ্টার কাছে সব সৃষ্টিই প্রিয় তবে কবিতাফোল্ডারগুলোর জন্যই আমার পরিচিতি।
কবি হিসেবেই তো আপনার পরিচিতি
আমাদের ও পাঠকের কাছে। আপনার ঝুলিতে কী কী পুরস্কার রয়েছে?
আমার ঝুলিতে নাটকের বা ফেসবুক গ্রুপ, টিভি চ্যানেল বা ছোট সংবাদপত্র, লিটিল ম্যাগাজিন বা সামাজিক সংগঠনের কাছ থেকে পুরস্কৃত হয়েছি। তবে সচেতন মানুষের ভালোবাসাই আমার কাছে শ্রেষ্ঠ সম্মান।
সচেতন মানুষের ভালোবাসা – দারুণ বললেন তো! তা সরকারি কিছু পুরস্কার বা সুযোগ সুবিধা
পাননি?
না। তার কারণ বোধহয় আমার লেখার মধ্যে কোন সরকার মনোমতো বা ভাল কিছু পায়নি তাই। সুযোগ ও সুবিধা আদায় করার যোগ্যতা নেই আমার।
আপনার জন্মস্থান ও বর্তামন বসবাস
কোথায় যদি অনুভূতির কথায়-এর পাঠকদের জন্য বলেন?
আড়িয়াদহ, পশ্চিমবঙ্গ।
বিয়ে করেননি কেন? সংসারে কে কে আছেন? চলে কীভাবে?
রোজগার করি না বিয়ে করবো কি করে! একাই থাকি। কত কষ্টে! এভাবে চলে না, তবু চালিয়ে নিই খুব কষ্ট করে।
আচ্ছা! কবিরাতো প্রেমিক হয়। আপনি কারো
প্রেমে পড়েননি? কেউ আপনাকে ভালোবাসা জানায়নি?
প্রত্যেকের মতন আমারও প্রেম এসেছে। কিন্তু, আমার কোন ভবিষ্যৎ নেই বলে পরিণতি পায়নি।
আপনি লেখেন কেন? টাকা পান? অনেকে প্রশ্ন করে না? তখন আপনার কী মনে হয়? প্রতিক্রীয়া কী হয় কবি কৌশিক গাঙ্গুলির?
খুবই কমজন লেখার জন্য টাকা দেন। আমি চাইতে পারি না। লিখি। কারণ, না লিখে পারি না। সচেতন মানুষদের অনুপ্রেরণা দেবার জন্য। আমার বক্তব্যকে তুলে ধরার জন্য লিখি। সম্মান ও অপমান আমার সাথেই থাকে, তাই লোকের প্রশ্ন বা কথা ফেস করেই থাকি।
নিজেকে কি কখনও প্রশ্ন করেন যে 'লেখালিখি করে কী পেলাম?' উত্তর কী পেলেন?
আমি সময়ের কথা লিখি আর ফলের আশায় কাজ করি না। সবাই যে সবকিছু পাবে এমন কথা নেই। ধান্দাবাজ হতে গেলেও যোগ্যতা দরকার। পেলে ভাল লাগে, না পেলেও আমার কিছু করার নেই কারণ যাত্রার বিবেকের মতন আমার লেখা শুভের কথা বলে যাবে সেটা স্বীকৃতি পাবে এমন কথা নেই।
এই যে আপনি ব্যর্থতার কথা বলেন।
কীসের এতো ব্যর্থতা? কেনইবা সেই ব্যর্থতা? কবিতা কি সেই ব্যর্থতার ফসল নাকি কারণ?
আর পাঁচজনের মতো হতে না পারার ব্যার্থতা তো আমাকে কোণঠাসা আর নিঃসঙ্গ করে তুলেছে। থোড় বড়ি খাড়া সময় বা মানসিক অধঃপতনে গ্রাস হওয়া সমাজ ব্যাবস্থার সাথে মানিয়ে চলতে পারি না তাই হয়তো প্রতিবাদী কবিতা লিখি। ধূসর সময়ের কথা বলি।
আপনি কাউকে কিছু বলতে চান? আবেদন, নিবেদন বা দাবী বা ক্ষোভ রাখতে চান?
আমাকে আমার মতো থাকতে দাও পারলে আমাকে লেখালিখির চাকরি দাও। স্বাধীনভাবে যাতে লিখতে পারি সময়ের কাব্য।
কবি কৌশিক গাঙ্গুলির এসময়ের একটি
কবিতা পড়ুন
পাগলা নিতাই
চারপাশে ধূলো, বালি মাখা পৃথিবীতে
ঈশ্বরের মতন মাটিতে বসে আছে পাগলা নিতাই।
দু চারটে অবশিষ্ট গাছে
কাকেরা কর্কশ কণ্ঠে গালি দিচ্ছে সব সফলতাকে।
চায়ের দোকানে বাতেলাবাজেরা
প্রচুর জ্ঞান বেলাচ্ছে বোকা ও পাঁকাদের উদ্দেশ্যে।
মাখন মাখা সুন্দরীরা ব্যাপক সেজে গেস্টহাউসে
সেক্স বিক্রি করছে কামুক দু নম্বরীদের।
বেপরোয়া গাড়ি ছুটে যাচ্ছে বেখাপ্পা রাস্তা দিয়ে।
দেশকে রক্ষা করেও মধ্যবিত্তের পেটে লাথি পড়ছে।
ভবিষ্যত না ভেবে দেদার জল নষ্ট করছে ক্যালানে পাবলিক।
হারিয়ে যাচ্ছে বিবেক-বোধ আর মনুষ্যত্ব।
বলো হরিবোল ধ্বনিতে মুখরিত আকাশ বাতাস।







1 comment
কবি কৌশিক গাঙ্গুলি আমার একজন প্রিয় কবি
Post a Comment